No icon

গাইবান্ধায় পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে ছোট ভাইকে খুন করে বড় ভাই

তাসলিমুল হাসান সিয়াম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের মৃত আজিজার রহমান বিএসসির পুকুরের পারে হত্যা করে পুকুরের পাশে জৈব বায়ূগ্যাস হাউজের ভিতর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন করা হয়েছে। এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নিহত শাওনের নিজের আপন বড় ভাই তানজির আহম্মেদকে গ্রেফতার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করেছে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ। 

১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার গাইবান্ধা বি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার    ময়নুল হোসেন জানায়, মূলত নিজের আপন ছোট ভাই সাগর সরকার শাওনের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং চিরকালের জন্য একান্ত আপন করে পাওয়ার লালসায় দা দিয়ে কুপিয়ে শাওনকে হত্যা করে বড় ভাই তানজির আহম্মেদ। পুলিশের হাতে আটক হওয়া হত্যাকারী তানজির নিজেই বর্ণনা করেছেন লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের কথা।

এ ঘটনায় নিহতের অপর বড় ভাই বেনজির আহম্মেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তিকে আসামী করে ৭ জানুয়ারি পলাশবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জানুয়ারী শনিবার জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মইনুল হোসেন এর নেতৃত্বে পলাশবাড়ী থানার ওসি তদন্ত মতিউর রহমান এস আই সঞ্জয় কুমার সহ সঙ্গীয় ফোর্স আসামীর নিজ বসতবাড়ীর শয়ন ঘরে অভিযান চালিয়ে তানজিরকে গ্রেফতার ও তার  বিছানার তোষকের নিচ থেকে  হত্যায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়।  এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৩ জানুয়ারী হত্যাকারী তানজির আহম্মেদ কে আদালতে পাঠায়। 

গ্রেফতারকৃত তানজির স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্দিতে জানিয়েছেন,  তিনি দীর্ঘদিন থেকে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রোজিনাকে প্রেম নিবেদন করতো। প্রথমে রোজিনা তাকে পাত্তা না দিলে ও পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রতিনিয়ত মোবাইলে বিভিন্ন কথাবার্তা হতো। যদিও তা দৈহিক  সম্পর্কে পর্যন্ত গড়ায়নি। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি ছোট ভাই জানতে পারার কারনেই তাকে হত্যা করার একক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন তিনি।  

গত ৬ই জানুয়ারি ( সোমবার) স্থানীয় কোমরপুর বাজারে একটি বিশাল ইসলামী জলসার আয়োজন করা হয়েছিল। সেদিন বিকেল ৪টা থেকে জলসার মাইকের আওয়াজে গোটা কোমরপুর এলাকা ছিল মুখরিত। এদিকে বড় ভাই তানজির হত্যা পরিকল্পনা গুছিয়ে নিতে তার নিজ ঘড় থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র (দা) নিয়ে এসে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মজুত করে রাখে মায়ের পেটের স্নেহের ছোট ভাই শাওনকে খুন করার উদ্দেশ্যে।

দুই ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি হওয়ায় ছোট ভাই শাওনের উপর নজর রাখে বড় ভাই তানজির। একসময় রাত ৯ টার দিকে বড় ভাই তানজির কৌশলে ছোট ভাই শাওনকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে নিকটবর্তী একটি চাতালের অন্ধকারে পুকুর পাড়ে চলে যায়।এসময় ছোট ভাই শাওন কিছুটা শংকিত হয়ে ফিরে আসতে চাইলে  তানজির কোমরে থাকা দা দিয়ে পিছন থেকে ছোট ভাই শাওনের মাথায় স্বজোরে একটি আঘাত করে। শাওন মা! বলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তানজির শাওনের মাথায় পরপর আরো কয়েকটি এলোপাতাড়ি আঘাত করে। ইসলামী জলসার মাইকের কারনে শাওনের চিৎকারের সেই শব্দ কেউ শুনতে পায়নি তখন। পরে ভাই শাওনের লাশ বস্তায় ভরে পার্শ্ববর্তী জৈব বায়োগ্যাস হাউজে টেনে-হেচরে নিয়ে যায়। লাশ যেন ডুবে থাকে সেজন্য বস্তার‍ ভিতরে ইটের টুকরো দিয়ে ভারি করে ফেলে দেয় হাউজের ভিতর। এভাবেই নিজের কুৎসিত ও বিকৃত লালসা চরিতার্থের জন্য পথের কাঁটা নিজের মায়ের পেটের আপন ছোট ভাই সাগর সরকার শাওনকে দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় করে সম্পুর্ন স্বাভাবিকভাবে আবারো নিজ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসে তানজির।

১১ জানুয়ারী পুলিশ কৌশলে নিহতের পরিবারের সকল সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। এ সময় নিহতের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে স্বীকার করেন স্বামীর বড় ভাই তানজির কতৃক  তাকে প্রেম নিবেদনের কথা!।

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারী সোমবার রাত আনুমানিক ৯ টা হতে নিখোঁজ ছিলো শাওন। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে পুকুর পাড়ে রক্তের চিহৃ দেখে এবং জৈব বায়ূগ্যাস হাউজের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার আলামত দেখে এগিয়ে যান স্থানীয়রা। এসময় হাউজের ভিতর খুঁজে পাওয়া যায় টগবগে যুবক শাওনের লাশ। পরে  পুলিশকে খবর দিলে মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় লাশ উদ্ধার করে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ। সেসময় নিজের আপন বড় ভাইয়ের হাতে নৃশংসভাবে নিহত শাওনের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহৃ দৃশ্যমান পাওয়া যায়।  

নিহত যুবক সাগর সরকার শাওন (৩২) পলাশবাড়ী উপজেলার ভগবানপুর গ্রামের  সাবু মিয়ার ছেলে। সে বিবাহিত এবং তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি  কোমরপুর বাজারে ব্যবসা করতেন।

Comment As:

Comment (0)